করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। প্রত্যেক দিন হাজারো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। আশার কথা হলো, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে জোরেসোরে টিকাদান চলছে।

বাংলাদেশে গত ৭ আগস্ট থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। কিন্তু টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। আবার কিছু মানুষের রয়েছে কিছু জিজ্ঞাসা। অনেকে জানতে চান গর্ভবতীরা কী করোনা প্রতিরোধের টিকা নিতে পারবেন?

এ বিষয়ে উত্তর হলো, হ্যাঁ, গর্ভবতীরা টিকা নিতে পারবেন। তবে আগে এটি নিয়ে এক ধরনের দ্বিধা দেখা দিয়েছিল। কারণ তখন পর্যন্ত গর্ভবতী কিংবা বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন মায়েদের ওপর টিকার কোনো ট্রায়াল হয়নি। কিন্তু ট্রায়ালে এখন দেখা গেছে, সাধারণ নারীদের মতো অন্তঃসত্ত্বা কিংবা নতুন মায়েদের শরীরে একই রকম অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। যেসব মা সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছেন, টিকা নেয়ার ফলে তাদের তাড়াতাড়ি গ্লোবিন চলে আসছে। সুতরাং সবাইকে টিকা নিতে হবে। ফ্রন্টলাইনার মায়েদের আগে দিতে হবে। অন্যদের উচিত, তাদের সুযোগ করে দেয়া।

অনেকের প্রশ্ন, ক্যানসার আক্রান্তদের কেমো থেরাপি চলাকালে টিকা নেয়া যাবে কি না? এক্ষত্রে বলব, করোনা আসলে কাদের জন্য বেশি খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করছে? কারা বেশি মারা যাচ্ছে? যারা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। যাদের কিডনি ও লিভার ফেইলিওর, যারা ক্যানসারে আক্রান্ত তারাই তো বেশি ভুক্তভোগী। এজন্য তাদেরকেই আগে টিকা নিতে হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উচিত, এ ধরনের রোগীদের সবার আগে কেন্দ্রে এনে টিকা দেয়া। কারণ এসব রোগীর অবস্থা গুরুতর থেকে খুব সহজে সংকটাপন্ন হচ্ছে। ফলে টিকাদানে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, একজন চিকিৎসক কখনো অথরিটি হন না। আপনি নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেন, গুগলকে চিকিৎসক মনে করেন, তাহলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ফেইসবুক কিংবা মিডিয়াকে চিকিৎসক মনে করবেন না। তাহলে আপনার ভুল হবেই। আপনি একজন ডক্টর, অবশ্যই ফিজিশিয়ানকে ফলো করবেন। হোয়াট ইজ দা গাইডলাইন? বিভিন্ন দেশের গবেষণার আলোকে গাইডলাইন করা হয়েছে। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ দেশের করোনা গাইডলাইন মাথায় নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে।

করোনা বলামাত্রই অ্যান্টিবায়োটিক লেখা যাবে না। এটি ফ্যাক্টরিয়াল রোগ নয়। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করে কিছুই করা যাবে না। সরকার কষ্ট করে টিকার ব্যবস্থা করছে। সুযোগ পেলেই টিকা নিয়ে নিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলে করোনা মহামারি মোকাবিলা করা সহজ হবে।