ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র হাইতির পশ্চিমাঞ্চলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯৭ জনে। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ভূমিকম্পের ঘটনায় পাঁচ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

সোমবার (১৬ আগস্ট) দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।

হাইতির সিভিল প্রোটেকশন এজেন্সি জানিয়েছে, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৭ জনে এবং যেসব হাসপাতাল এখনো কাজ করছে তারা এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। তারা আহতদেরকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জেরেমি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। এখানে ডাক্তাররা আহত রোগীদের গাছের নীচে এবং রাস্তার পাশে ও স্ট্রেচারে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। কারণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের জায়গা শেষ হয়ে গেছে।

হাইতির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান জেরি চ্যান্ডলার রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের একটি গুরুতর সমস্যা যাচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল যা এখন অকার্যকর এবং যেগুলো কার্যকর আছে সেগুলোতে রোগী উপচে পড়ছে।’

সংবাদমাধ্যমটির প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে হাইতির দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। শক্তিশালী ভূমিকম্পে বাড়ি, গির্জা, হোটেলসহ অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী পোর্টা প্রিন্স থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে।

উদ্ধার কর্মীরা শত শত মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এবং এখনো আহত মানুষদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার কাজ চলছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশটির অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তাদের রাতে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। এমনিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রেসিডেন্টকে হত্যার ঘটনায় দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল হেনরি এই ভূমিকম্পকে ‘ব্যাপক ক্ষতি’ বলে আখ্যায়িত করে এক মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং দেশবাসীকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে না আসা পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন না বলে জানান হেনরি।

daily bijoy.net