মুন্সীগঞ্জ সদরে পদ্মায় চলছে অবৈধ ড্রেজিং, মাটি কেটে বিক্রি

0

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের রাকিরকান্দি গ্রাম সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে করে পদ্মায় ভাংঙ্গন আতংকে রয়েছে পদ্মা তীরবর্তী রাকিরকান্দি, দেওয়ানকান্দি, শিলইসহ ৫টি গ্রাম ও নদী তীরবর্তী হাজার হাজার একর ফসলী জমি। পাশাপাশি পদ্মা নদীর দক্ষিন পাড়ের সরকারী খাস জমির মাটি বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে আরেকটি চক্র। দিনের পর দিন এই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে প্রশাসন মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালায় । অভিযানের পর পর আবার পূনরায় শুরু হয় নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমির মাটি বিক্রি। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্ধাদের।
স্থানীয়রা জানান, রাকিরকান্দি গ্রামের শাহদাত বেপারী পদ্মা নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বালু তুলে বিক্রি করে আসছে। পাশাপাশি শিলই ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এর আপন বড় ভাই ইসমাইল আরেকটি ড্রেজার দিয়ে রজতরেখা নদীর প্রবেশ মুখ ভরাট করে গড়ে তুলেছে দোকান ও বালু বিক্রির প্রতিষ্ঠান । সকাল ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই বালু উত্তোলন ও বিক্রি। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে জানান, শাহাদাত বেপারী পদ্মা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে। অন্যদিকে ইসমাইল মেম্বার পদ্মার বালু নিয়ে ঐতিহ্যবাহী রজতরেখা নদীর প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দখল করেছে। নদীটি এখনও শুকনো। বর্ষার সময়ও পদ্মার সাথে সংযুক্ত রজতরেখায় পানি আসে না। ইসমাইল পাশাপাশি পদ্মা তীরবর্তী ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করেন বলেও জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাকিরকান্দি গ্রামের দক্ষিনপাশে খানকা শরীফ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে চলছে শাহদাত বেপারীর ড্রেজার। সেখানে সরাসরি পদ্মা নদীতে থেকে বালু উত্তোলন করে ২ কিলোমিটার দূরে বিভিন্ন গ্রামের ডোবা ভরাট চলছে। দিঘিরপাড় বাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইসমাইল নামের এক প্রভাবশালী প্রায় ১০ একর নদী ভরাট করে বালু ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর দক্ষিন তীরে গিয়ে দেখা যায় ইসমাইল এর লোকজন খাসজমির মাটি কেটে ট্রলারযোগে বিভিন্ন ইট ভাটার উদ্যেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, এগুলো সরকারী খাস জমি। আমরা ইসমাইল ভাই এর কাজ করি। মাটিগুলো বিভিন্ন ইটভাটা ও অন্যান্য উপজেলায় বিক্রি করা হয়। তারো আরো বলেন, জানি এগুলো সরকারী জমি। আমরা পেটের দায়ে কাজ করি। ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরেই মাটি কেটে বিক্রি করে। প্রশাসনের লোক আসলে বন্ধ রাখি।
বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে শাহদাত বেপারী বলেন, আমি সব সময় ড্রেজার চালাই না। এখানে নদীটা পলি পড়ে পানির গভীরতা কমে গেছে । নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে এবং পার্শবর্তী গ্রামের পুকুর ভরাট করতে বালুর প্রয়োজন তাই চালাচ্ছি।
অন্যদিকে ইসমাই মেম্বার বলেন,নদীর গতিপথ ভরাট করা হয়নি। পদ্মায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এখানে এক সময় আমাদের জমি ছিলো তাই এখানে ব্যবসা করি। ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, খাস জমির মাটি অনেকেই কাটে। আমার কোন লোক মাটি কাটে না। প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার নামটা বলেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো ফারুক আহাম্মেদ বলেন, বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে বিক্রির বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে।