“আপনার ইচ্ছা শক্তিই পারে, আপনাকে কর্মঠ ও স্বচ্ছল রাখতে”

0

সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন-একটি গবেষণাভিত্তিক অলাভজনক সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান

যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন বাংলার কৃষক-শ্রমিক আর আপামর জনগণ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরতে ঘুরতে, আজ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। তবে নগরায়নের এই সময়ে অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক। এক সময়ের অর্থনীতির চালকের আসনে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখন অনেকটাই অবহেলিত। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সবাইকে সাথে নিয়েই তারা এগিয়ে চলেছে। এই জনগোষ্ঠীর বিশাল শ্রমশক্তি তাদের অর্থনীতির গতিকে বাড়াচ্ছে কয়েকগুণ। বাংলাদেশকেও উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে। কাজে লাগাতে হবে তাদের কর্মদক্ষতা। এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু। প্রতিনিয়ত আমরা গবেষণা করছি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনার নতুন নতুন উপায় নিয়ে। অলাভজনক এবং অরাজনৈতিক এই সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের শ্লোগান-আপনার ইচ্ছা শক্তিই পারে, আপনাকে কর্মঠ ও সচ্ছল রাখতে।

আমাদের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকারের পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছি আমরা। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর করণীয় নিয়ে চলছে আমাদের গবেষণা। নিচে সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের কিছু বর্ণনা।

পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের গবেষণাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা শিশু ছিলেন, এখন তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ৫০ পেরিয়েছে। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে বাংলাদেশের আজকের এই অবস্থায় আনতে যৌবনের বেশিরভাগ সময় দিয়েছেন তারা। এখন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই মানুষগুলোর অনেকেরই কোন আয়ের ব্যবস্থা নেই। তবে কর্মক্ষম এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনা গেলে, তা হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে ঘুরিয়ে দেয়ার জাদুর চাবিকাঠি। এই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি আমরা। বয়স্ক এই ব্যক্তিদের জীবনকে কর্মঠ ও সচ্ছল রাখতে করছি একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ। পাশাপাশি চলছে,বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমশক্তিকে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে দেশের উপযোগী নতুন নতুন পন্থা নিয়ে গবেষণা।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা

আমরা বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষই দেশের সম্পদ। গ্রামাঞ্চলে যেসব জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক কাজের বাইরে রয়েছেন, তাদেরকে মানব সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের নিজেদের জীবন ও দেশের অর্থনীতি পরিবর্তন সম্ভব। তাদের নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা আসলে, ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি সমৃদ্ধ হবে দেশ। আমরা বিশ্বাস করি এই জনগোষ্ঠীকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আর প্রান্তিক মানুষদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হলে, তাদের ভাষায় তাদেরকে বোঝাতে হবে; দক্ষতা অনুযায়ী করতে হবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এরপর তা বাস্তবায়নের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিতে নিতে হবে পদক্ষেপ। এজন্য সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দরকার ব্যক্তি উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো। সেই কাজটি আমরা করে চলেছি অক্লান্তভাবে।

দেশি বিদেশি সফল উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো

আমরা বিশ্বাস করি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শুধু প্রশিক্ষণের মাঝে সীমাবদ্ধ রেখে কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের শ্রমকে কাজে লাগানোর মতো উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করছি আমরা। আমরা তাদের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি, দেশ বিদেশের সফল উদ্যোক্তাদের আঞ্চলিক এসব বাণিজ্যে অর্থায়নের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছে সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। আমাদের গবেষণায় আমরা দেখেছি, যথেষ্ট কর্মদক্ষতা ও প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র বিনিয়োগের অভাবে কাজ করতে পারছেন না অনেকে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়া গেলে, হয়ে উঠতে পারেন সফল উদ্যোক্তা। এই ধরণের সুযোগ তৈরির জন্য আমরা এরই মধ্যে দেশ ও বিদেশের সফল উদ্যোক্তাদের সাথে মিলে কয়েকটি অঞ্চলের প্রান্তিক দক্ষ মানুষদের মধ্যে বিনিয়োগ করিয়েছি। সামনের দিনগুলোতে তা আরও বড় আকারে করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।

শ্রমের বিনিময়ে বাণিজ্যিক প্রকল্পে বেতনের পাশাপাশি অংশিদারিত্ব প্রথার বিস্তার

আমাদের গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও চাকুরীর ব্যবস্থার পাশাপাশি শ্রমশক্তিকে আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক কাজের ব্যবস্থা করলে ভালো সুফল পাওয়া যায়। এজন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মালিকানা নিয়ে গবেষণা করছি। একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ব্যক্তির যখন ওই প্রতিষ্ঠানের লাভ লোকসানের সাথে নিজের লাভ লোকসান জড়িয়ে থাকে, যখন তার কাজের স্পৃহা বাড়ে কয়েকগুণ। প্রতিষ্ঠানকে নিজের করে নেয় সে। ফলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রকল্পে বেতনের পাশাপাশি অংশিদারিত্ব প্রথা প্রচলনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। এই পদ্ধতির বিভিন্ন মডেল নিয়ে আমাদের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন ধারণা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রান্তিক জনশক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করা সবচেয়ে সহজ।

শ্রমজীবীদের কাউন্সিলিং ভিত্তিক সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ বাড়ানো

আমাদের দেশে যারা শ্রমজীবী হিসেবে আছেন, তাদের মানসিক অবস্থা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা হয়না। পাশাপাশি তাদের নেই কোন কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা। আমাদের গবেষণা বলছে, শ্রমশক্তির কর্মদক্ষতা বাড়াতে শ্রমজীবীদের নিয়মিত কাউন্সিলিং প্রয়োজন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা শ্রমজীবীদের কাউন্সিলিংয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কাজ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের দায়িত্ব কর্তব্য এবং করণীয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে।

নতুন নতুন সফল উদ্যোক্তা তৈরি

দেশজুড়ে বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং সেসব কর্মক্ষেত্রে কিভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে আমরা মানুষকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। পাশাপাশি প্রচলিত বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণকে সংযুক্ত করে তাদের ভাগ্যবদলের চেষ্টা করছি আমরা। নতুন উদ্যোক্তারা যাতে সফলরা পান, এজন্য গবেষণালব্ধ বিভিন্ন জ্ঞান তাদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কর্মজীবী তৈরির পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা তৈরিতে এরই মধ্যে সফলতা পেয়েছি আমরা। এই সফলতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করে, দেশজুড়ে লাখো উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে এগোচ্ছে সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতির গতিকে তরান্বিত করা

অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু নির্দিষ্ট শহরকেন্দ্রিক হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণ। করোনা মহামারির পর এই বিষয়টা আরও বাস্তবভাবে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। আমাদের গবেষণা বলছে অর্থনীতিকে তরান্বিত করতে চায় অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতির ভীত গড়ে তোলা। অর্থনীতির কেন্দ্রকে একমুখী না করে ছড়িয়ে দেয়া। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যদি শিল্পভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, তেমনি নিজেদের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবেন অনেক। এভাবেই বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গড়ে উঠবে অসংখ্য স্বাধীন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান। যা জাতীয় অর্থনীতিতে রাখবে বড় ধরণের অবদান। সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতি নিশ্চিত করা গেলে আসবে সচ্ছলতা। এতে করে দূর হবে সামাজিক বৈষম্য। দেশের অর্থনীতি হবে বহুগুণ শক্তিশালী।

আর্তমানবতার সেবা

দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে সব সময় আছে সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। এসব কাজের অংশ হিসেবে দেশের প্রান্তিক এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক এবং খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছি আমরা। বিভিন্ন এলাকায় নিঃস্বার্থভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে সবসময়। এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকল কলাকুশলী স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে তাদের মেধা, শ্রম,ও সময় দিয়ে কাজ করে চলেছেন। গ্রাম্য অর্থনীতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রচেষ্টাকে বাস্তবে রূপ দেব। বাংলাদেশ আমাদের দেশ,এই দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমার, আপনার, সকলের। সরকারের পাশাপাশি এই দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সৎ ইচ্ছা আর অদম্য মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। আপনাদের সেবায় নিয়োজিত সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

মোহাম্মদ হাসান আহাম্মেদ (খোকন)

চেয়ারম্যান, সালামত উল্লাহ রিসার্চ ফাউন্ডেশন।