রায়হানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তার এলাকাবাসী’র

0

স্টাফ রিপোর্টারঃ
অবশেষে মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলো (মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষিত) রায়হান কবির নামে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের এক প্রতিবাদী যুবক। সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক আর্ন্তজাতিক গনমাধ্যম আল জাজিরায় দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের কোটি প্রবাসী শ্রমিকদের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে দেশটির অভিবাসন বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে এ তথ্যটি উঠে এসেছে। রায়হান কবিরের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে রায়হানের এলাকাবাসীসহ গোটা দেশের সচেতন ব্যাক্তিবর্গ তীব্র প্রতিবাদসহ তার মুক্তির দাবি জানা। এদিকে শনিবার তার এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শণে গেলে তারা জানান,রায়হান কবির এমন একজন পরোপকারী মানুষ যে নিজে না খেয়ে অন্যের মুখে আহার তুলে দেয়। এলাকায় সে অসংখ্য গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়ার খরচ বহণসহ বই খাতাও কিনে দিতেন। অনেক সময় নিজের শরীরের রক্ত দান করেও অন্যের জীবন বাঁচাতেন। তার দোষ একটাই সেটা হচ্ছে যে তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের দু:খের কথা তুলে ধরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার প্রবাসী ভাইদের দুদর্শার কথা তুলে ধারর প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হওয়া। নারায়ণগঞ্জ বন্দরের শাহী মসজিদের নিজ এলাকাতেও প্রতিবাদী তরুন হিসেবে পরিচিত। মালয়েশিয়া থেকে বাংলদেশে এলে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। যে কোন বিপদ আপদে ঝাপিয়ে পড়ে। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করে। এ রকম নিরঅপারধ প্রতিবাদী তরুন বঙ্গবন্ধুর প্রতিবাদী টান নিয়ে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী রায়হান শুধু সত্য বলার কারনে গ্রেপ্তার হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ শনিবার সকালে বন্দরে শাহী মসজিদ নুরবাগ এলাকায় রায়হানের জন্য প্রতিবাদ করে নুরবাগ এলাকাবাসী বলে ‘‘ রায়হান নুরবাগের নূর । ও সোনার ছেলে। আমরা রায়হানের সাথে এ রকম অবিচার ঘটতে দেব না। রায়হানকে দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে প্রার্থনা করছি।
ছেলে গ্রেপ্তার হবার পরই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স¦জনেরা। ছেলের জন্য মা রাশিদা ও শাহ আলম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এখন দিশেহারা। মা বলে ‘‘ লক ডাউনে আটকে থাকা বন্ধুকে দেখতে গিয়ে ওর কষ্ট সহ্য না করতে পেরে ও এই প্রতিবাদ করেছে। ও মালয়েশিয়া প্রবাসীদের খাবারও দিয়েছে।
রায়হানদের প্রতিবেশী শাকিলা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন‘‘ রায়হান খুব ভালো ছেলে। সে আমাদের এলাকার গর্ব। টেলিভিশনে ওর গ্রেপ্তারেরর খবর পেয়ে খুব খারাপ লাগছে। এলাকায় মাদক ও অন্যায়ের কিছু দেখলেই ও প্রতিবাদ করত। এবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী ভাইদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। অপরাপর প্রতিবেশী আমেনা বেগম বলেন ‘‘ আমি মৃত্যু পথ যাত্রী ছিলাম। ও খবর পেয়ে বন্ধু বান্ধব সহ আমাকে রক্ত দিতে গিয়েছিলেন।
রায়হানের বাবা শাহ আলম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক শিল্প এলাকার পোষাক কারখানার এক কর্মচারী। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে মালশিয়ায় পড়তে যান। বাবা শাহ আলম বলেন মালয়শিয়ায় ¯œাতক শেষে ঈদুল ফিতরে তার চাকরি হয়। সে চাকরির টাকা সে বাংঙ্গালীদের কষ্টে থাকা ভাইদের জন্য থরচ করতেন তিনি।
গ্রেপ্তারের ২ দিন আগে পরিবারের সাথে কথা হয় তার। গ্রেপ্তারের আগ মুহুর্তে এ ভিডিও বার্তায় রায়হান বলেন‘‘ আমি হয়ত আর কিছুক্ষনের মধ্যে গ্রেপ্তার হব। আমি মালয়শিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলিনি। আমি শুধূ কথা বলেছি আমার বাংলা মায়ের ছেলের দুদর্শার কথা। এতে করে আমার যদি মৃত্যু হয় তাহলে আমি মাথা পেতে নিব।