অবশেষে মফিজুল,জসিম,সালমান শাহ,মান্না,বুলবুল ও রাজ্জাকের পথে পাড়ি জমালেন চিত্রনায়ক সাত্তার

0
স্টাফ রিপোর্টারঃ
চিত্রনায়ক মফিজুল ইসলাম,জাফর ইকবাল,সালমান শাহ,জসিম,মান্না,বুলবুল আহমেদ ও নায়ক রাজ্জাকের পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন আশির দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের ফোক হিরো সাত্তার। মঙ্গলবার (৪আগষ্ট) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকায় হাসপাতালে নেয়ার পথে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন। দৈনিক বিজয় পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী কাকলী সাত্তার। নায়ক সাত্তার দীর্ঘ দিন ধরেই জটিল রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি আরো ৩দফা ব্রেনষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শায়িত ছিলেন। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসার জন্য বিগত ৬ বছর আগে প্রধাণমন্ত্রী তাকে ৩০লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। প্রদত্তমন্ত্রী’র প্রদত্ত অনুদানেই তার চিকিৎসা সংসারের খরচ চলতো।
অসুস্থ্যতার দরুন চিত্রনায়ক নায়ক সাত্তার দীর্ঘদিন ধরেই সিনেমায় অনিয়মিত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি এফ আই মানিক পরিচালিত ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ওই ছবিতে তিনি দীঘির বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন।
মঙ্গলবার বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গতঃ নায়ক সাত্তারের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। ফোক ও লোকজ গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি উঠে আসেন। বিশেষ করে ইবনে মিজানের ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ ছবিতে শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করে বেশ তাক লাগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে
১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়েই তিনি কাজ করেন কাজী হায়াৎ-এর ‘পাগলী’ ছবিতে,আজিজুর রহমানের ‘রঙ্গিন রূপবান’, ‘অরুন বরুণ কিরণ মালা’, ‘কাঞ্চন মালা’, ইবনে মিজানের ‘পাতাল বিজয়’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘শুভদা’, মিলন চৌধুরীর ‘রঙ্গিন সাত ভাই চম্পা’সহ প্রায় দেড় শতাধিক ছবিতে।
 
বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়কার সুপার কুইন শাবানা থেকে শুরু করে রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, জিনাত আমান, কবিতা, অলিভিয়া, রানীসহ অনেক সুপার হিট নায়িকার বিপরীতে কাজ করেছেন সাত্তার। তার মৃত্যুতে সিনেমাপাড়ায় শোক নেমে এসেছে। নায়ক সাত্তারের অনাকাংখিত মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশসহ তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন মিডিয়া ভিশন থিয়েটারের দলপতি সাব্বির আহমেদ সেন্টু,কথক নাট্য দলের দলপতি পিয়ার জাহান কমল,বসুন্ধরা নাট্যগোষ্ঠীর দলপতি নাজমুল হাসান আরিফসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।