লাঙ্গলবন্দে সরকারি সমাজসেবা অফিস ২৫ বছর ধরে দখল করে ভাড়া হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টারঃ বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের লাঙ্গলবন্দ নগর এলাকায় সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত সমাজসেবা অফিসটি (১টি সেমি পাকা ভবন) প্রায় ২৫ বছর যাবৎ দখল করে ওয়ার্কশপ ও বাসস্থান হিসেবে ভাড়া দিয়ে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে উক্ত এলাকার মরহুম আঃ মজিদ মেম্বার ও তার ছেলে রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে। বন্দর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিরবতা ও খামখেয়ালীপনার কারণে মুছাপুরস্থ উক্ত কার্যালয়টি দীর্ঘদিন পূর্বে স্বার্থান্বেষী মহলের দখলে চলে গিয়ে উক্ত এলাকায় সরকারিভাবে সমাজসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জায়গাটি দখলমুক্ত করতে সমাজসেবক হাজী আব্দুল মান্নান মাস্টার সহ স্থানীয়রা দখলকারীদের সাথে কথা বললেও তারা দখল ছাড়েনি উল্টো মান্নান মাস্টার উক্ত অফিসের জায়গাটি দখল করতে চান বলে অপপ্রচার চালায়। জায়গাটি দখলমুক্ত করতে মান্নান মাস্টার বন্দর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে দখলে থাকা উক্ত অফিসের জন্য একটি সাইনবোর্ড বানানোর কথা বলা হয় এবং দ্রুত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জায়গাটি দখলমুক্ত করার বিষয়ে আশ্বাস দেয়া হয়। গণমাধ্যমকর্র্মীরা যোগাযোগ করলেও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানান সমাজসেবা কর্মকর্তা। বেশ কিছু দিন কেটে গেলেও বিষয়টির কোন অগ্রগতি না দেখতে পেয়ে হাজী আব্দুল মান্নান মাস্টার (৯ নভেম্বর) সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সহ বন্দর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে উক্ত জায়গা দখলমুক্ত করতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উক্ত নগর এলাকার মরহুম আঃ মজিদ মেম্বার ৫ শতাংশ জায়গা দান করলে ১৯৮৬ সালে সরকারিভাবে উক্ত জায়গায় অত্র সমাজসেবা অফিসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬ বছর ঠিকভাবে চলার পর হঠাৎ এ অফিসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরক্ষণে মরহুম আঃ মজিদ মেম্বার ও বর্তমানে তার ছেলে রাসেল মিয়া অফিসটি দখল করে ওয়ার্কশপ ও বাসস্থান হিসেবে ভাড়া দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং এখোনো দখলি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তদন্তপূর্বক উক্ত হাতিয়ে নেয়া টাকা আদায় সহ পুনরায় সমাজসেবা অফিসটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানান আবেদনকারী মান্নান মাস্টার।

এ বিষয়ে দখলকারী রাসেলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘সরকারিভাবে উচ্ছেদ করা হলে আমরা জায়গাটি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি’।

এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে বন্দর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম মোক্তার হোসেন ফোনে জানান, ‘জায়গাটি খারিজ করতে এসিল্যান্ড অফিসে কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। দ্রুত খারিজ হয়ে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। জায়গাটি ছেড়ে দিতে তাদেরকে ২ বার নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো তারা দখল করে রাখায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার সেখানে সমাজসেবা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে এবং জায়গাটি দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে’।