জমি ঢেকে গেছে বালিতে, হাজার হেক্টর অনাবাদি

0
সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।। বানের পানি নামলে অন্যান্য বছরের মতো আমন আবাদের স্বপ্ন ছিল কৃষক দেলোয়ার হোসেনের। কিন্তু পানি নামার পর দেখা গেল ৩ বিঘা জমি র পুরোটাই বালিতে ঢেকে অনাবাদি হয়ে গেছে। পরিবারের খাবার জোগাতে বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যেতে হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদরের চর সারডোবের দেলোয়ার হোসেনের মতো অনেক কৃষকের কপালে আসন্ন খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় চিন্তার ভাঁজ।
বন্যার ঢল, ভাঙন ও বাঁধ ভেঙে কুড়িগ্রামে কমপক্ষে এক হাজার হেক্টর আবাদি জমি ঢেকে গেছে বালিতে। গত কয়েক বছরে এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে চরাঞ্চলের কৃষকরা অভাব মোচন করলেও এ বছর আমন চাষ করতে না পেরে খাদ্যসংকটের শঙ্কায় পড়েছেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব গ্রামে মধ্য জুলাইয়ে একটি বিকল্প বাঁধ ভাঙার কারণে শত শত একর আবাদি জমিতে ৩-৫ ফুট বালিতে ঢেকে গেছে। একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী জয়কুমর ও হলোখানা গ্রামেও। এসব এলাকার কৃষকরা এবার আমন চাষ করতে না পেরে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি বালিতে ঢেকে যাওয়ায় নষ্ট হয়েছে পাট, কলা, সবজি ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে হাজারো কৃষক।
হলোখানা গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান জানান, গত বছর যে জমিগুলোতে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছিল, এবার সবগুলো জমি বালিতে ঢাকা পড়েছে। তার ১০ বিঘা জমি বালিতে ঢাকা পড়েছে, এসব জমিতে কয়েক বছর ফসল ফলানো যাবে কি-না তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তিনি। একই অবস্থা বাঙ্গর আলী, কলিম উদ্দিনসহ অনেক কৃষকের।
বালির কারণে আবাদ না হওয়ায় কৃষক ও দিনমজুর পরিবারগুলোতে আসন্ন খাদ্যসংকটের দুশ্চিন্তা ভর করেছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা চান বালি জমিতে চাষের উপযোগী মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টি আলু ও ভুট্টার মতো ফসল চাষ করতে। এ ক্ষেত্রে রয়েছে পুঁজির সংকট। তাই তারা এই সংকট মেটাতে তারা চান সরকারি সহায়তা।
সারডোব গ্রামের কৃষক দুখু মিয়া বলেন, ‘হামার টাকা পইসা নাই। বালা সরাই কেমন করি। সরকার সাহায্য করলে হামরা মিষ্টি কুমড়া আর ভুট্টা আবাদ করলোং হয়’। ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষি রাবেয়া বেগম জানান, বালুজমিতে ফসল ফলাতে প্রচুর সেচের পানি দরকার। বর্তমান অবস্থায় তাদের পক্ষে সেচের অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এই গ্রামের কনছার আলী জানান, নদীভাঙনের তাণ্ডবে ঘর বাড়ি হারিয়েছে এই গ্রামের অনেকেই। তার ওপর বন্যায় পাট নষ্ট ও জমিতে বালির কারণে আমন রোপণ করতে না পারায় এই এলাকার ঘরে ঘরে এখন হাহাকার।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। বন্যাপরবর্তী সময়ে ১ হাজার ২০০ কৃষককে এক বিঘা করে জমি মাসকালাই চাষ করার জন্য বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় প্রায় ৭ হাজার কৃষককে আমনের চারা ও ১০ হাজার কৃষককে শাকসবজির বীজ দেওয়া হয়েছে। তবে বালি জমিতে চাষযোগ্য ফসল আবাদের জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ আসেনি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষি কমকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, বন্যায় জমি অনাবাদি ও ফসল নষ্টের বিষয়টি তারা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কৃষি প্রণোদনার কোনো বরাদ্দ আসলে ক্ষতি পোষাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে।